প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে বিদেশ যাওয়ার ঋণ পাওয়ার নিয়ম
বিদেশগামী অভিবাসী কর্মী ও বিদেশ অধ্যাগত কর্মীদের পূর্ণবাসনের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠালঙ্গ থেকে এর সম্পৃক্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঋণ সহায়তা প্রদান করে আসছে। সেইসাথে প্রবাসী কর্মীর উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য ব্যবসা প্রকল্প ঋণ প্রদান করে আসছে। কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে শ্রেষ্ঠ প্রবাস ফেরত কর্মীদের উন্নয়নে এ ব্যাংক বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এসব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গৃহীত সরকারের নীতি ও কৌশল বাস্তবায়নের সব সময় অগ্রহে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ভূমিকা অনিবার্য। বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেতের উন্নয়নকে শিল্পায়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করে খ্যাতকে হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সূচিপত্রঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে বিদেশ যাওয়ার ঋণ পাওয়ার নিয়ম
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অভিবাসন কি
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ পাওয়া যায়
- ঋণের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অভিবাসন ঋণের চার্জ
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অভিবাসন কি
জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও কর্মস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত অবদান রাখতে সক্ষম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মধ্যে একটি উন্নয়নশীল দেশ যা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ যেখানে বেকার সমস্যা অত্যন্ত যেখানে সার্বিক অর্থায়নে উন্নয়নে ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের কোন বিকল্প নেই।বিদেশ কর্মের স্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে হাজারো মানুষ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। তবে বিদেশ যাওয়ার আগে ভিসা বিমান টিকিট প্রশিক্ষণ এবং অনেকেই আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হয়।
আরো পড়ুনঃ
অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করতে কি কি লাগে
এর প্রয়োজনে পূরণের সরকারের বিশেষায়িত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক PKB বিদেশগামী কর্মীদের জন্য সহজ শর্ত বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা দিয়ে আসছে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী যোগ্য আবেদনকারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে জামানতবিহীন অভিবাস ঋণসহ বিভিন্ন ঋণ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ পাওয়া যায়
বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অন্যতম জনপ্রিয় ঋণ হলো অভিবাসন ঋণ। এই ঋণ মূলত বিদেশে বৈধভাবে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়া কর্মীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভিসা এবং রিয়েলট্রি ভিসা দি উভয় আবেদনকারী নির্ধারিত শর্তার ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৩ লাখ এবং ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর কাগজপত্র বিদেশে কর্মস্থানের বৈধ বা ও ব্যাংকের যাচাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঋণের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ
এ পর্যায়ে আপনাকে ঋণের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং আবেদনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। ঋনার আবেদনের জন্য আপনার যেসব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে সেগুলো হলো
- ভিসার ফটোকপি
- আপনার সদ্য তোলার (চার )কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) এর ফটোকপি, জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র এর ফটোকপি
- আপনার পাসপোর্টের প্রথম দুই পাতার ফটোকপি
- পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকত্ব সনদপত্র এর ফটোকপি
- চুক্তিপত্রের ফটোকপি
- বি এম এ টি কর্তৃক পদাত্ত স্মার্ট কার্ড(বহির্গমন ছাড়পত্র) এবং প্রশিক্ষণ সনদের ফটোকপি
- প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট এর ফটোকপি (যদি থাকে)
- স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফটোকপি (যদি থাকে)ম্ভাব্য যাত্রা তারিখ সহ বিমান টিকিটের ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে /যদি থাকে)
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অভিবাসন ঋণের চার্জ
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অভিবাসন ঋণের সুদের হার মাত্র ৯% অর্থাৎ শতকরা ৯ টাকা। আপনাকে যেদিন ঋণের টাকার চেক প্রদান করা হবে সেদিন থেকেই ২ মাস সময় আপনি গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পাবেন। অর্থাৎ ঋণের টাকার প্রাপ্তির পর দুই মাস আপনাকে ঋণের কিস্তি প্রদান করতে হবে না। এ ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদকাল দুই বছর। শুধুমাত্র সিঙ্গাপুর এর ক্ষেত্রে এ ঋণের মেয়াদ এক বছর।
আরো পড়ুনঃ BRTA অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি
দুই বছরে মোট ২৪ মাসে আপনাকে মোট বাইশটি কিস্তির মাধ্যমে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ প্রথম দুই মাস ছাড়া পরে দুই বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থাৎ কিস্তি হিসেবে ব্যাংক জমা দিতে হবে। উল্লেখ সিংগাপুর এর ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ এক বছর হওয়াই ঋণের টাকা ১০ কিস্তির মাধ্যমে এক বছরে পরিশোধ করতে হবে।
শেষ বক্তব্য ঃ
প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অভিবাসন ঋণ এর শর্ত সমূহ এবং আবেদন প্রক্রিয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করা হচ্ছে। আমরা এই পোষ্টের মাধ্যমে অভিবাসন ঋণ সম্পর্কে এই পরিপূর্ণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে যে কোন আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনারা নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা যোগাযোগ করতে পারেন।

ব্লগ বাজারে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url