হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত প্রাকৃতিক উপায়

 হিমোগ্লোবিন রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে অক্সিজেনে মুছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাত্রা কমে গেলে ক্লান্তির দুর্বলতা এবং নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।  আর খাদ্য ভাস  বা দীর্ঘস্থায়ী রোগ নানান কারণে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে।

সৌভাগ্য সদ্য আয়রন সমৃদ্ধ খাবার সাপ্লিমেন্ট এবং চিকিৎসার যেমন আয়রন থেরাপি বা রক্ত সঞ্চালন এর মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই পোস্টে আমরা জানবো সেরা খাদ্যবস ওর ডায়েট সংক্রান্ত সমাধান এবং কি খেলে হিমোগ্লোবিন বাড়বে। 

সূচিপত্রঃ হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত নয় প্রাকৃতিক উপায়

হিমোগ্লোবিন কি 

হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শরীরে বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গে পৌছে দেয়। একই সঙ্গে একটি শরীরের টিস্য থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে নিয়ে যায়। যেখান থেকে তার নিঃশ্বাসের সঙ্গে বেরিয়ে যায় এবং পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন না থাকলে শরীরের শক্তি ধরে রাখা এবং অঙ্গ পতঙ্গের রাসায়নিক বা স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যতীত হয়। এর ফলে শাড়ি ক্লাব দিবা নানা সমস্যা অনুভূতি হয়। 

প্রথম দিকে লক্ষণগুলো হালকা হতে পারে, কিন্তু মাত্রা বেশি থাকলে সে উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে যেগুলো হল 

  • সবসময় ক্লান্তি ও দুর্বল লাগা 
  • ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া 
  • শ্বাসকষ্ট সমস্যা দেখা দেওয়া বা হাপিয়ে যাওয়া 
  • মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব লাগা 
  • চুল পড়া 

কম হিমোগ্লোবিনের ঝুঁকি 

সময় মত ব্যবস্থা না দিলে অত্যন্ত কম হিমোগ্লোবিন মাত্রা থেকে জটিলত হতে পারে। যেমন অঙ্গ পতঙ্গের ক্ষতি পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পাওয়ার কারণে। হৃদয় যন্ত্রে জটিলতা ও নিয়মিত হার্ট ভিডিও হার্ট ফেলি অর পর্যন্ত হতে পারে বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় জোট লতা অকাল প্রসাব শিশু ক্রম ওজন নিয়ে জন্মানো এবং শিশু কাছে  কম অক্সিজেন পৌঁছানোর ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।

হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম হওয়ার কারণ গুলি 

রক্তলতা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকার বেশ কয়েকটি কারণের মধ্যে রয়েছে। 

  1. পুষ্টির ঘাটতিঃ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আয়রন ভিটামিন বি ১২ এবং ফ্লোটের ঘাটকে রক্তলতা সবচেয়ে সাধারণ কারণ। 
  2. রক্তের ক্ষয়ঃ আগা তো অস্পষ্টচার  লায়লার, রক্তপাত( টিউমার ও আলসার) অথবা মহিলাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাসিক প্রবাহ এসবের ফলে উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণ এবং রক্তলতা দেখা দিতে পারে। 
  3. ক্রনিক রোগঃ  জনিত রোগ দীর্ঘস্থায় কিডনি রোগ এবং কিছু ধরনের ক্যান্সার সহ বেশ কয়েকটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা কারণে শরীরের সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি বা বজায় রাখার ক্ষমতা বাহিত হতে পারে। 
  4. হিমোলাইসিন্সঃ এটি লোহিত রক্ত কণিকার মাধ্যমে ভাঙ্গন এবং এটি জনগত ব্যাধি সংক্রমণ বা নির্দিষ্ট ওষুধের কারণে হতে পারে। 
  5. অস্থির-মজ্জারবাদীঃ হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকার কারণ হতে পারে লিওনকেমিয়া অ্যাপেলিস্টিক অনিমিয়া এবং মাইলোডিস প্লাস্টিক সিনড্রোমের মত অবস্থা যা অস্থির মজ্জার লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের ক্ষমতাকে বাধ্য করে। 
  6. গর্ভাবস্থাঃ গর্ভাবস্থায় বিকাশ মান ভবনকে সমর্থন করার জন্য শরীরের আরো বেশি আয়রনের প্রয়োজন হয়। যদি খাদক গ্রহণ অবস্থা পর্যাপ্ত হয় তাহলে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
  7. অটোইমিউন রোগঃ লোপাস এবং রিউমা এইট আর্থাইটিস অটোইমিউন রোগ গুলি সৃষ্টি করতে পারে যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলভাবে স্বাভাবিক লোহিত রক্তকণিকাকে লক্ষ্য করে ধ্বংস করে দেয়।

হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ানোর উপায় 

হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য সব সময় ওষুধের প্রয়োজন হয় না। খাদ্যভাস বা জীবনযাপন বেশ কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে যা আপনার শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে আরও বেশি লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করতে  পারে। কিছু খাবার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে কোন কঠোর পদ্ধতি ছাড়া সহজে তাদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পরিবর্তন করা যেতে পারে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ানোর জন্য কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি রয়েছে।

যা খেলে হিমোগ্লোবিন বাড়বে 

রক্ত কোষের লৌহ সমুদ্র এক ধরনের প্রোটিন হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। এটি শরীরের অক্সিজেন পরিবহনের সাহায্য করে। সুস্থ জীবন যাপনের রক্ত হিমোগ্লোবিনের মাত্র সঠিক থাকার প্রয়োজন। কিছু খাবার খেয়ে রক্ত হিমোগ্লোবিনের মান ঠিক রাখা যায়। 

লৌহ যুক্ত খাবার 

শরীরের লৌহের কাটি হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের লোহৌ গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। লহ সমিত্র খাবারের মধ্যে রয়েছে মুরগির, কলিজা, ঝিনুক, ডিম, আপেল, বেদানা, ডালিম, তরমুজ, কুমড়া, বিচি, খেজুর,  কিসমিচ ইত্যাদি।


ভিটামিন সি 

ফলিক অ্যাসিড এক প্রকার ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এটি লাল রক্ত কণিকা তৈরিতে প্রয়োজনীয় উপাদান সবুজ পাতাযুক্ত সবজি কলিজা ভাত সিমের বিচি বাদাম কলা সবুজ ফুলকপিতে অনেক ফলিক এসিড পাওয়া যায়। 

আপেল

দিনের একটি করে আপেল খেয়ে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাথা ঠিক রাখতে পারেন। আয়রনের উৎস আপেলে আহরণ নানা প্রকার পুষ্টি উপাদান রয়েছে প্রতিদিন খোঁচা সহ একটি আপেল খান এবং অথবা সমানুপাতে আপেল বিতের সাথে রস মিশাতে পারেন।

বিট 

হিমোগ্লোবিন বাড়াতে ভিটের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। এতে রয়েছে প্রচুর আয়রন ফলিক এসিড ফাইবার ও পটাশিয়ামের পুষ্টিমান সুরের লাল রক্তকণিকা বাড়ায়।

ডালিম 

আইরন ক্যালসিয়াম শর্করা ও আজ ফাইবার সমৃদ্ধ ডালিম রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে দিয়ে রক্ত চলাচল সচল করে। প্রতিদিন মাঝারি আকৃতির একটি ডালিম খাওয়ার চেষ্টা করুন। অথবা এক গ্লাস ডাল মে জুস খান।

কখন ডাক্তার দেখাবেন 

যদি আপনার নিম্নলিখিত কোন সমস্যা থাকে তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে দেখা করা উচিত 

  • সব সময় ক্লান্ত দুর্বল বোধ করা 
  • অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট 
  • হৃদয় স্পন্দন দ্রুত বা নিয়মিত নয় 
  • রক্তপাত বা ক্ষয় যা ব্যাখ্যা করা যায় না 
  • ত্বক বা মাড়ি ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া 

নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করলে রক্ত শোলক তার মাধ্যমিক পর্যায়ে ধরা পড়তে পারে। এমনকি কোন লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই। 

চিকিৎসা বিকল্প 

সমস্যাটা কি কারণে হয়েছে এমন কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। বেশ কয়েকটি বিকল্প রয়েছে যেমন  

  • আয়রন সাপ্লিমেন্ট মুখ দিয়ে নেওয়া হোক বা আইভি দিয়ে না হোক।
  • ফলেট বা ভিটামিন বি ১২ সম্পূর ।
  • রক্ত সঞ্চালন চরম ক্ষেত্রে ।
  • লোহিত রক্তকণিকা তৈরি সাহায্য করে এমন ওষুধ যার মাধ্যমে রয়েছে এরিথোপয়েট।
  • কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণ বা পেটে রক্তপর সহ ইতিমধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সমস্যা গুলি যত্ন নেওয়া।

হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা কত 

আপনার বয়স এবং লিঙ্গের উপর নির্ভর করে স্বাভাবিক মাত্রা পরিবর্তন হতে পারে। 

  1. পুরুষ প্রতি ১০ লিটারের জন্য ১৩.৫ থেকে ১৭.৫ গ্রাম 
  2. মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি ১২.০ থেকে ১৫.৬ গ্রাম/বেসিক লিটারের মধ্যে।
  3. এটা নির্ভর করে বাচ্চাদের বয়স কত তার উপর। 

শেষ বক্তব্য ঃ

আপনার শরীর যাতে ভালোভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য আপনার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সুস্থ রাখার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আপনি কি খান এবং কিভাবে জীবন যাপন করেন তা নিয়ে পরিবর্তন করে আপনি স্বাভাবিকভাবে আপনার মাত্রা উন্নত করতে পারেন। যদি আপনার লক্ষণ গুলি আরো খারাপ হয়ে হয় বা তাহলে আপনার প্রয়োজন ডাক্তার সাথে পরামর্শ করা। 

আপনি যদি ভালো খাবার খান ভালোভাবে জীবন যৌবন করেন এবং সঠিক চিকিৎসা সেবা পান তবে আপনি সুস্থ এবং সঙ্গে থাকতে পারেন। হিমোগ্লোবিনের মাত্র কম হওয়া বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগ বাজারে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url