ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ঘরোয়া উপায় ২০২৬
বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, আগে এই রোগটি মূলত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও এখন কম বয়সীদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের হার বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা এবং মানসিক চাপএসবই এর অন্যতম কারণ।
অনেকেই মনে করেন, ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই স্বাভাবিক জীবন শেষ। আসলে বিষয়টি তা নয়। নিয়ম মেনে চললে এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে কিছু ঘরোয়া অভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। এগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ঘরোয়া উপায় ।
সূচী পত্রঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ঘরোয়া উপায়
ডায়াবেটিস কী?
ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীর ঠিকভাবে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা তৈরি হওয়া ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, চোখের জটিলতা এবং স্নায়ুর ক্ষতির মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করুন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো নিয়মিত হাঁটা।প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করলে শরীর ইনসুলিন ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদযন্ত্রও সুস্থ থাকে।
খাবারে আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান
আঁশযুক্ত খাবার হজম ধীরে করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না।
খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন
- শাকসবজি
- লাউ
- করলা
- ঢেঁড়স
- শসা
- গাজর
- ওটস
- লাল চাল
- আটার রুটি
- ডাল
এ ধরনের খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমায়।
আরো পড়ুনঃ
Up Work সহজে কাজ পাওয়ার উপায়
অতিরিক্ত মিষ্টি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমেই কমাতে হবে অতিরিক্ত মিষ্টি ।
যেসব খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলবেন
- কোমল পানীয়
- অতিরিক্ত মিষ্টি
- কেক
- পেস্ট্রি
- চকলেট
- মিষ্টি বিস্কুট
- প্যাকেটজাত মিষ্টি পানীয়
এর পরিবর্তে পানি, ডাবের পানি (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী), বা চিনি ছাড়া লেবুর শরবত পান করতে পারেন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।যাদের ওজন বেশি, তারা যদি ধীরে ধীরে শরীরের মোট ওজনের ৫–১০ শতাংশ কমাতে পারেন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।হঠাৎ ওজন কমানোর চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোই ভালো।
আরো পড়ুনঃঅনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করতে কি কি লাগে
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
অনেকেই পানি খাওয়ার গুরুত্ব বুঝতে পারেন না।পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক থাকে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ পানি পান করার চেষ্টা করুন। তবে কিডনি বা হৃদরোগ থাকলে কতটা পানি পান করবেন, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরি
কম ঘুম বা অনিয়মিত ঘুম রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুমের চেষ্টা করুন। রাতে দেরি করে জেগে থাকা এবং অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার কমানোও উপকারী।
মানসিক চাপ কমান
অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তন ঘটায়, যা রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।
- চাপ কমানোর জন্য
- প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটুন।
- পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।
- নামাজ, ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন।
খাদ্য তালিকা
এগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাতেও প্রভাব ফেলে।ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সহজ একটি খাদ্য তালিকা সারাদিন কী খাবেন, নিচে একটি সাধারণ উদাহরণ দেওয়া হলো।
সকালের নাস্তা
- আটার রুটি ২টি অথবা ওটস
- একটি সেদ্ধ ডিম
- শসা বা টমেটো
- চিনি ছাড়া চা
দুপুরের খাবার
- পরিমিত পরিমাণ ভাত বা লাল চাল
- মাছ বা মুরগির মাংস
- প্রচুর শাকসবজি
- ডাল
বিকেলের নাস্তা
- একটি আপেল বা পেয়ারা
- একমুঠো বাদাম (পরিমাণমতো)
রাতের খাবার
- আটার রুটি বা অল্প ভাত
- সবজি
- মাছ বা ডাল
খাবারের পরিমাণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আপনার জন্য উপযুক্ত খাদ্যতালিকা জানতে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
যেসব খাবার কম খাওয়া ভালো
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিচের খাবারগুলো যতটা সম্ভব সীমিত রাখুন।
আর পরুনঃ কনটেন্ট মনেরটাইজেশন সম্পন্ন সেটিং নিয়ম
- কোমল পানীয়
- অতিরিক্ত মিষ্টি
- কেক ও পেস্ট্রি
- আইসক্রিম
- অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার
- ফাস্টফুড
- অতিরিক্ত সাদা পাউরুটি
- অতিরিক্ত চিনি মেশানো চা বা কফি
শেষ বক্তবঃ
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা নিয়ম মেনে চললে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণএই কয়েকটি অভ্যাসই আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
ঘরোয়া কিছু উপায় উপকার করতে পারে, কিন্তু সেগুলো কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়। তাই নিজের শরীরের যত্ন নিন, নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।



ব্লগ বাজারে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url